---Advertisement---

অ্যান্টার্কটিকা থেকে উঠে আসা রহস্যময় সংকেত !

Published On:
অত্যাধুনিক বেলুনবাহিত অ্যান্টেনা ANITA (Antarctic Impulsive Transient Antenna)
---Advertisement---

নিউট্রিনো তত্ত্ব বাতিল, নতুন পদার্থবিজ্ঞানের ইঙ্গিত?

২০০৬ সালে অ্যান্টার্কটিকার আকাশে পাঠানো হয়েছিল অত্যাধুনিক বেলুনবাহিত অ্যান্টেনা ANITA (Antarctic Impulsive Transient Antenna)। এর উদ্দেশ্য ছিল মহাকাশ থেকে আসা অতিউচ্চ শক্তির কসমিক নিউট্রিনো শনাক্ত করা। প্রায় ৩৭ কিলোমিটার উচ্চতা থেকে এই যন্ত্রটির মহাকাশের সংকেত ধরার কথা ছিল।

কিন্তু গবেষকদের বিস্মিত করে দিয়ে ANITA যে সংকেতটি ধরে, তা আসছিল মহাকাশ থেকে নয়—বরং পৃথিবীর অভ্যন্তর দিক থেকে উঠে আসছে বলে মনে হয়।

তৎকালীন গবেষকদের ধারণা ছিল, এই সংকেতের উৎস একটি টাউ নিউট্রিনো—নিউট্রিনোর তিনটি প্রকারের একটি, যা অত্যন্ত দুর্লভ এবং পদার্থের সঙ্গে খুব কমই বিক্রিয়া করে। ব্যাখ্যা অনুযায়ী, টাউ নিউট্রিনোটি পৃথিবীর ভেতর দিয়ে ভ্রমণ করার পর এক উচ্চশক্তির বিক্রিয়ায় একটি টাউ লেপটন তৈরি করে। সেই লেপটন ক্ষয়প্রাপ্ত হওয়ার সময় দ্বিতীয়কণার একটি ঝাঁক বা ‘এয়ার শাওয়ার’ তৈরি হয়, যা থেকেই ওই সংকেতের উৎপত্তি।

২০১৪ সালে পৃথিবীর দিক থেকে ঊর্ধ্বমুখী আরেকটি কণাবৃষ্টির (particle shower) সনাক্তকরণ এই ব্যাখ্যাকে আরও জোরালো করেছিল বলে মনে করা হয়।

কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণায় এই ব্যাখ্যা সম্পূর্ণভাবে ভুল প্রমাণিত হয়েছে। ২০০৬ এবং ২০১৪ সালে ধরা পড়া এই দুই রহস্যময় সংকেতের আসল কারণ এখন আবার অজানার অন্ধকারে ফিরে গেছে।

অ্যান্টার্কটিকার ভেতর দিয়ে প্রবাহিত এই সংকেত আজও এক অমীমাংসিত রহস্য।

এই বিষয়টি আরও গভীরভাবে অনুসন্ধান করতে যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির পদার্থবিজ্ঞানীরা ভিন্নমত পোষণ করেন। তারা আর্জেন্টিনার Pierre Auger Observatory-এর তথ্য বিশ্লেষণ করেন—যা উচ্চশক্তির কসমিক রশ্মি শনাক্ত করতে সক্ষম।

একাধিক সিমুলেশনের মাধ্যমে তারা ২০০৬ ও ২০১৪ সালের ঘটনাগুলির সঙ্গে মিল রয়েছে এমন কোনও সংকেত খোঁজার চেষ্টা করেন। কিন্তু গবেষণার ফলাফল পূর্ববর্তী ঘটনার সঙ্গে কোনওভাবেই মেলেনি। গবেষকরা কোনও মিলযোগ্য সংকেত বা সন্তোষজনক ব্যাখ্যা খুঁজে পাননি।

বিশেষ করে এই গবেষণায় স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, এই দুই ঘটনার সঙ্গে নিউট্রিনোর কোনও সম্পর্ক নেই। কারণ ধরা পড়া সংকেতগুলির আচরণ নিউট্রিনোর স্বীকৃত বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

তাই নতুন গবেষণার সঙ্গে যুক্ত পদার্থবিজ্ঞানীদের অনুমান—এটি হয়তো সম্পূর্ণ নতুন কোনও পদার্থবিজ্ঞানের ইঙ্গিত, কিংবা অজানা কণার অস্তিত্ব, অথবা নিউট্রিনো সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান এখনও অসম্পূর্ণ।

যদিও এই নতুন গবেষণা রহস্যের সমাধান দিতে পারেনি, তবে বিজ্ঞানীদের মতে তারা অন্তত এটুকু বুঝতে পেরেছেন—কোন পথে সমাধান খুঁজতে হবে না। এই রহস্যের উত্তর খোঁজার আশায় ২০২৫ সালের শেষের দিকে নাসার নতুন বেলুনবাহিত মিশন ‘Payload for Ultrahigh Energy Observations’ উৎক্ষেপণ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

Follow Us On

---Advertisement---

Leave a Comment