পুনের বিমান দুর্ঘটনায় মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারসহ পাঁচ জনের মৃত্যু
পুণে, ২৮ জানুয়ারি (পিটিআই): মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার ও আরও চার জন বুধবার সকালে পুণে জেলায় এক মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন বলে সরকারি সূত্রে জানা গেছে।
দিল্লিভিত্তিক সংস্থা ভিএসআর ভেঞ্চার্স পরিচালিত একটি লিয়ারজেট ৪৫ বিমান বরামতি বিমানবন্দরে অবতরণের সময় দুর্ঘটনাগ্রস্ত হয়। অসামরিক বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিরেক্টরেট জেনারেল অব সিভিল অ্যাভিয়েশন (DGCA) জানিয়েছে, বিমানে মোট পাঁচ জন আরোহী ছিলেন, যাঁদের মধ্যে ক্রু সদস্যরাও অন্তর্ভুক্ত।
এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত ব্যুরো (AAIB) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করবে।ফ্লাইট রাডারের তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি সকাল ৮টা ১০ মিনিটে মুম্বই থেকে উড্ডয়ন করে এবং সকাল ৮টা ৪৫ মিনিট নাগাদ রাডার থেকে অদৃশ্য হয়ে যায়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সকাল ৮টা ৫০ মিনিট নাগাদ বিমানটি ভেঙে পড়ে।একটি সূত্র জানিয়েছে, অবতরণের আগে পাইলট রানওয়ের কাছে দৃশ্যমানতা কম থাকার কথা উল্লেখ করেছিলেন। পুণে জেলার পুলিশ সুপার সন্দীপ সিং গিল জানান, দুর্ঘটনার পর বিমানটিতে আগুন ধরে যায়। “বিমানে থাকা সকলকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়,” তিনি বলেন। লিয়ারজেট ৪৫ মাঝারি আকারের একটি ব্যবসায়িক জেট বিমান, যা বম্বার্ডিয়ার অ্যারোস্পেসের লিয়ারজেট বিভাগ নির্মাণ করে। অবতরণের সময় বিমানটি রানওয়ে থেকে ছিটকে গিয়ে আগুন ধরে বিস্ফোরিত হয়।
৬৬ বছর বয়সি অজিত পাওয়ার মুম্বই থেকে বরামতিতে যাচ্ছিলেন রাজ্যের ৫ ফেব্রুয়ারির জেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রচারে জনসভায় যোগ দিতে। অজিত পাওয়ার স্ত্রী সুনেত্রা (রাজ্যসভার সাংসদ) এবং দুই পুত্র পার্থ ও জয়কে রেখে গেছেন।
রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহসহ দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা অজিত পাওয়ারের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এক্স (সাবেক টুইটার)-এ এক পোস্টে রাষ্ট্রপতি মুর্মু বলেন, মহারাষ্ট্রের উন্নয়নে, বিশেষত সমবায় ক্ষেত্রে অজিত পাওয়ারের অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, অজিত পাওয়ার ছিলেন জনগণের নেতা, যাঁর সঙ্গে সাধারণ মানুষের গভীর সংযোগ ছিল। তাঁর অকালপ্রয়াণ অত্যন্ত মর্মান্তিক ও বেদনাদায়ক।
অমিত শাহ বলেন, অজিত পাওয়ারের মৃত্যু শুধু এনডিএ পরিবারের নয়, তাঁর ব্যক্তিগতভাবেও অপূরণীয় ক্ষতি।
মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবীস এই মৃত্যুকে “অবিশ্বাস্য” বলে উল্লেখ করে বলেন, তিনি একজন ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে হারালেন। উপ-মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে বলেন, এই দুর্ঘটনা দুঃখজনক এবং তদন্ত করা হবে।
মহারাষ্ট্র সরকার ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। এই সময়ে সমস্ত সরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে এবং কোনও সরকারি বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান হবে না।








