মহাকাশ বিজ্ঞানীদের বিস্ময়
ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরাল থেকে ১৯৬৪ সালের ২১ জানুয়ারি উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল যোগাযোগ উপগ্রহ ‘রিলে–২’ (Relay 2)। নাসা এবং আরসিএ (রেডিও কর্পোরেশন অব আমেরিকা) যৌথভাবে তৈরি এই পরীক্ষামূলক যোগাযোগ উপগ্রহটি মাত্র তিন বছর সক্রিয় ছিল। ১৯৬৭ সালের পর থেকে এটি কার্যত অচল হয়ে মহাকাশের অন্ধকারে ঘুরে বেড়ানো অসংখ্য পরিত্যক্ত উপগ্রহের একটি—নীরব, বিস্মৃত ও মৃত মহাকাশ আবর্জনায় পরিণত হয়।
কিন্তু ২০২৪ সালের জুন মাসে ঘটে যায় এক চমকপ্রদ ঘটনা। অস্ট্রেলিয়ার কার্টিন বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা হঠাৎই ওই উপগ্রহের অবস্থান থেকে এক তীব্র রেডিও বিস্ফোরণ রেকর্ড করেন। বিশালাকৃতির অস্ট্রেলিয়ান ASKAP রেডিও টেলিস্কোপ ব্যবহার করে তারা এই সংকেত ধরতে সক্ষম হন—যা নিয়ে সম্প্রতি একটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে।
এই রেডিও বিস্ফোরণটি ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী। মুহূর্তটির জন্য এটি আকাশে উপস্থিত অন্য সব রেডিও উৎসের তুলনায় বেশি উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিল, যদিও এর স্থায়িত্ব ছিল মাত্র ৩০ ন্যানোসেকেন্ডেরও কম।
সংকেতের দিকনির্দেশ এবং কৃত্রিম উপগ্রহ সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকরা নিশ্চিত হন যে সংকেতটির উৎস ছিল পৃথিবী থেকে মাত্র প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার দূরে—এবং সব প্রমাণই ইঙ্গিত করে মৃত উপগ্রহ ‘রিলে–২’-এর দিকেই।
তবে প্রশ্ন উঠছে—একটি দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ক্রিয় উপগ্রহ কীভাবে এত শক্তিশালী রেডিও সংকেত পাঠাতে পারে? গবেষকদের মতে, এর একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হলো, বছরের পর বছর ধরে উপগ্রহটির গায়ে বৈদ্যুতিক চার্জ জমা হয়েছিল, যা হঠাৎ স্পার্কের মতো মুক্ত হয়ে যায়—যেমন বিদ্যুৎ সকেটে হঠাৎ স্ফুলিঙ্গ দেখা যায়। আরেকটি সম্ভাবনা হলো, কোনও অতি ক্ষুদ্র উল্কাপিণ্ড (মাইক্রোমিটিওরাইট) উপগ্রহটিতে আঘাত হেনে প্লাজমার ক্ষুদ্র মেঘ সৃষ্টি করে, যার ফলেই এই সংকেত উৎপন্ন হয়।
এই ঘটনা মহাকাশে ইলেক্ট্রোস্ট্যাটিক ডিসচার্জের ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, এ ধরনের ঘটনা সক্রিয় উপগ্রহের ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটাতে পারে, এমনকি কোনও চলমান মহাকাশযান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাই ভবিষ্যতে মহাকাশের আবর্জনা এবং পরিত্যক্ত উপগ্রহগুলির ওপর আরও নিবিড় নজরদারির পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকরা।








