শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ‘হত্যাচেষ্টা’ মামলা ভেঙে পড়ল — খুঁজে পাওয়া গেল না ভুক্তভোগী
ঢাকা:
২০২৪ সালের বাংলাদেশে সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আরও ১১২ জনের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একটি আলোচিত ‘হত্যাচেষ্টা’ মামলা ভেঙে পড়েছে। তদন্তকারীরা অভিযোগে উল্লিখিত ভুক্তভোগীকে খুঁজে পাননি এবং মামলার মূল তথ্য যাচাই করতেও ব্যর্থ হয়েছেন। তা সত্ত্বেও পুলিশ স্বীকার করেছে যে মামলা প্রত্যাহার না করার জন্য তাদের ওপর রাজনৈতিক চাপ রয়েছে।
বাংলাদেশের বিশেষ তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (PBI) ঢাকার একটি আদালতে জানিয়েছে যে মামলাটিতে একাধিক “তথ্যগত ভুল” রয়েছে— যার মধ্যে রয়েছে ভুক্তভোগীর অনুপস্থিতি, ভুয়া পরিচয়পত্র এবং এমন এক অভিযোগকারী, যাকে তার নিজের দেওয়া ঠিকানাতেই খুঁজে পাওয়া যায়নি।
PBI আদালতকে জানায়, এই মামলা বাতিল হলে শেখ হাসিনা-সহ ১১২ জন অভিযুক্ত, যাদের মধ্যে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা সজীব ওয়াজেদ জয় (শেখ হাসিনার পুত্র) এবং ওবায়দুল কাদের রয়েছেন, সবাই দোষমুক্ত হয়ে যাবেন। কিন্তু এই সিদ্ধান্তের কারণে সংস্থাটি রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছে বলেও জানানো হয়।
কীভাবে দায়ের হয়েছিল মামলা
এই মামলাটি দায়ের করা হয় ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার ধানমন্ডি থানায়। অভিযোগকারী নিজেকে মোঃ শরীফ বলে পরিচয় দেন এবং দাবি করেন তিনি হাজারীবাগ ট্যানারি এলাকার বাসিন্দা। তিনি বলেন, তাঁর ২৭ বছর বয়সী ছোট ভাই শাহেদ আলী ৪ আগস্ট ধানমন্ডি ২৭ নম্বরে মীনা বাজারের কাছে আন্দোলনের সময় ‘হত্যাচেষ্টার’ শিকার হন।
এই মামলায় মোট ১১৩ জনকে অভিযুক্ত করা হয়, যার মধ্যে শেখ হাসিনাও ছিলেন। এছাড়াও ঢাকা কলেজ ও সিটি কলেজের ৯ জন ছাত্র আহত হয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়, কিন্তু তাদের ঠিকানা বা চিকিৎসার কোনো নথি দেওয়া হয়নি।
প্রথমে স্থানীয় পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করলেও পরে মামলাটি তদন্তের জন্য PBI-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়।
PBI-এর তদন্তে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য
দীর্ঘ তদন্তের পর PBI জানায়, অভিযোগে উল্লিখিত ভুক্তভোগীকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যায়নি। অভিযোগকারীর পরিচয় ও ঠিকানাও যাচাই করা যায়নি। মামলার সঙ্গে জমা দেওয়া কিছু কাগজপত্র ভুয়া বলে চিহ্নিত হয়েছে।
এই সব কারণেই সংস্থাটি মামলাটিকে “মৌলিকভাবে অবিশ্বাসযোগ্য” বলে উল্লেখ করে আদালতে চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দেয়।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর এবং মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পরে আওয়ামী লীগের বহু নেতার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। আওয়ামী লীগ ও তাদের সমর্থকদের দাবি, এই মামলাগুলোর অনেকই রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে করা।
এই ‘হত্যাচেষ্টা’ মামলার ভেঙে পড়া বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশ এবং আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার ওপর গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। এখন আদালতের সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে দেশবাসী।








